জনতার উপর গুলি চালানোর দায়ে ২ পুলিশ সহ এক আনসার সদস্য গ্রেফতার

rcn24bd-090news-Bangla23-0009900

আরসিএন২৪বিডি – চট্রগ্রাম

পুলিশ আসামি ধরতে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনায় দুই পুলিশ ও এক আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। নিহতের ভাই বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের পর শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিকেলে তাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনজন হলেন, সীতাকুণ্ড থানার এসআই নাজমুল হোসেন, কনস্টেবল আবুল কাশেম এবং আনসার সদস্য ইসমাইল।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ যদি মামলা করে সেটা গ্রহণ করব এবং অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। মামলা দায়েরর পর তিনজনকে গ্রেফতার করে আমরা আদালতে পাঠিয়েছি। কোন ব্যক্তির অপরাধের দায় নেবে না পুলিশ বাহিনী।

আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের তথ্য পেয়ে তিনজন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ঘটনা ঠিক, কিন্তু তারা ওসিকে অবহিত করে যাননি। এছাড়া হামলার পর থানার সাহায্য না চেয়ে তারা গুলি করেন এবং একজনের প্রাণহানি ঘটান। এটাকে গুরুতর অপরাধ ধরে নিচ্ছি আমরা। মামলা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য পিবিআই কিংবা সিআইডির কাছে পাঠানো হবে। একথা বলেন পুলিশ সুপার।

তাছাড়া এর আগে দুই পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। আনসার সদস্যকে আনসার বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়।

ঐদিকে সংঘাতের সময় গুলিবর্ষণে একজন নিহতসহ সার্বিক ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজাকে প্রধান করে এই কমিটিতে আরও আছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) রেজাউর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-বিশেষ শাখা) শাহজাহান ভূঁইয়া।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি এলাকায় সাদা পোশাকে আসামি ধরতে যায় পুলিশ। এসময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলা ঠেকাতে পুলিশও গুলি করে বুধবার (২৪ জানুয়ারি)।

অন্যদিকে রাত পৌনে ১১ টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নেওয়ার পর সাইফুল ইসলাম (২২) নামে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। আর আহত দুজন হলেন, ইমরান আলী জয় (১৯) ও কবির আহমেদ (৫৫)।

সম্পর্কিত সংবাদ