ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া একটি স্থান পেল।

ক্রোয়েশিয়া একটি স্থান পেল।

ফ্রান্স,বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া একটি স্থান পেল।

বধিত সময়ে যেই ফের্নান্দেস সমতা ফেরানো গোলে রাশিয়ার নতুন আশা জেগে তুললেন, তিনিই টাইব্রেকারে করলেন মিস। তাতে গোল পাল্টা গোলে জমে ওঠা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল জিতল ক্রোয়েশিয়া। স্বাগতিক রাশিয়ার হৃদয় ভেঙে দীর্ঘ ২০ বছর পর সেমিফাইনালের টিকিট পেল তারা। ২-২ গোলে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জিতল ক্রোয়েটরা।

১১ জুলাই মস্কোতে ক্রোয়েশিয়ার সেমিফাইনাল প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। আগের দিন আরেক সেমিফাইনালে লড়বে বেলজিয়াম ও ফ্রান্স।

দেনিস চেরিশেভের অসাধারণ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রাশিয়া। এরপর আন্দ্রে কামারিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। ১-১ গোলে নির্ধারিত সময় পার হলে অতিরিক্ত সময়ে দোমাগোজ ভিদার গোলে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে ফের্নান্দেসের গোলে ম্যাচ আরও জমজমাট করে তোলে রাশিয়া।

টাইব্রেকারে স্মোলোভ প্রথম শট মিস করেন। গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বল মারেন ফের্নান্দেস। ক্রোয়েশিয়াও একটি গোল মিস করেছিল, কোভাচিচকে রুখে দেন রুশ গোলরক্ষক আকিনফেভ। শেষ শুটে ইভান রাকিতিচ গোল করলে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম সেমিফাইনালের
টিকিট পায় ক্রোয়েটরা।

সোচিতে ম্যাচের শুরুতে রাশিয়ার গোলপোস্টের কাছাকাছি বল নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু লক্ষ্যে একটিও শট নিতে পারেনি। ৬ মিনিটে আন্তে রেবিচের শট ইগোর আকিনফেভ ব্যর্থ করে দেন। কিছুক্ষণ পর মারিও মানজুকিচ প্রায় ৮ গজ দূর থেকে শট নিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
সোচির গ্যালারি উৎসবে মেতে ওঠে ম্যাচ ঘড়ির কাঁটা যখন আধঘণ্টা পার হবার পরই। গত দুই ম্যাচে মাত্র একটি করে শট নেওয়া রাশিয়াকে চমৎকার গোলে এগিয়ে দেন দেনিস চেরিশেভ।

টিকে থাকার আশা জাগিয়েও জিততে পারল না রাশিয়া৩১ মিনিটে জিউবার দারুণ অ্যাসিস্টে বল পায়ে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলপোস্টের বাঁ দিক দিয়ে জালে জড়ান ভিয়ারিয়াল স্ট্রাইকার। ডেনমার্কের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে দারুণ সব সেভ করা সুবাসিচ বল ঠেকানোর কোনও সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।

বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি রুশরা। ৩৯ মিনিটে মানজুকিচের কাট ব্যাক পাস থেকে ক্রামারিচের হেড জালে জড়ায়।

বিরতির পর রাশিয়ার দুটি সুযোগ নষ্ট হয় দুর্বল হেডে। ৬২ মিনিটে কর্নার থেকে আর্তেম জিউবার হেড সহজে ধরেন সুবাসিচ। ৭২ মিনিটে ফের্নান্দেসের ক্রস থেকে এরোখিনের হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
এটি ক্রোয়েশিয়ার দুর্ভাগ্য যে ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারেনি। ইভান পেরিসিচের ৮ গজ দূর থেকে নেওয়া শট বাঁ পোস্টে লেগে গোলমুখের ডান দিক দিয়ে চলে যায়।

চেরিশেভের বদলি নামা স্মোলোভ শেষ ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে গোলমুখে আড়াআড়ি শট নেন। শক্তিশালী শটটি প্রতিহত করলেও ধরে রাখতে পারেননি সুবাসিচ। দেহান লভরেন বল বিপদমুক্ত করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে এই তিনটি সুযোগ নষ্ট হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১০০ মিনিটে লুকা মদরিচের কর্নার থেকে দারুণ হেডে দলকে এগিয়ে দেন ভিদা। তার ১৫ মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জাগোয়েভের ফ্রি কিক থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ফের্নান্দেস।

প্রসঙ্গত

বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি ম্যাচই খেলে হেরেছিল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের কাছে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের পর গত আসরে গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের কাছে ৩-১ গোলে হারে তারা। এবার সেই ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙল জ্লাতকো দালিচের শিষ্যরা।

সম্পর্কিত সংবাদ