রিফাত হত্যাঃ মিন্নির জামিন নামঞ্জুর

রিফাত হত্যাঃ মিন্নির জামিন নামঞ্জুর

আগস্ট ৮, ২০১৯ 0 By আরসিএন২৪বিডি.কম

রিফাত হত্যাঃ বরগুনায় প্রকাশ্য রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা বলেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, ‘এ পর্যায়ে আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেখে আমরা তার জামিন দেব না।

আমরা সর্বোচ্চ তার জামিন প্রশ্নে একটা রুল জারি করতে পারি।’ পরে মিন্নির আইনজীবীরা জামিন আবেদনটি ফেরত নিয়েছেন।

জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

সঙ্গে ছিলেন আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও জামিউল হক ফয়সাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা দায়রা ও জজ বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালত মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ৪ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মিন্নির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

৫ দিনের রিমান্ডে থাকা মিন্নিকে ২য় দিন গত ১৯ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত ঐদিন তাকে কারাগারে পাঠান।

রিফাত হত্যার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সাথে মিন্নির বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ও ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়। সন্ত্রাসী নয়নের মা’র দাবি- নয়নের সঙ্গে মিন্নি বিয়ে হয়েছিল, সংসারও হয়েছিল।

রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরেও নয়নের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মিন্নির। হত্যার একদিন আগেও নয়নের সঙ্গে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন মিন্নি।
এছাড়াও নয়ন-মিন্নি বিয়ে রেজিষ্ট্রি করা কাজীও কাবিলনামাসহ বিয়ের বিষয়ে সতত্যা নিশ্চিত করেন।

এছাড়াও রিফাত হত্যার সময় প্রথম দিকের একটি ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এতে প্রথম দিকে রিফাতকে যখন সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে যাচ্ছিল তখন মিন্নিকে নিরব দেখা যায়। অনেক পেছন পেছন নিরব ও স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন মিন্নি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ জুলাই) বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রিফাতের বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

এসময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুত্রবধূ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের দাবি জানান দুলাল শরীফ।

এরপর চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা আলোচনা-সমালোচনায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দিনে জিজ্ঞাসাবাদের পর আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ্য করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো—সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড (২৫), মো. রিফাত ফরাজী (২৩), রিফাত ফরাজীর ভাই মো. রিশান ফরাজী (২০), চন্দন (২১), মো. মুসা, মো. রাব্বি আকন (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রায়হান (১৯), মো. হাসান (১৯), রিফাত (২০), অলি (২২) ও টিকটক হৃদয় (২১)।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

এখন পর্যন্ত গ্রেফতার আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

তবে এই মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চার জন গ্রেফতার হয়নি।

আরসিএন২৪বিডি/ সময়: ২০২৫ আগষ্ট ০৮, ২০১৯