কাঁঠালবোঝাই ট্রাকে থেকে ৭১৮ বোতল ফেনসিডিল জব্দ —র‍্যাব-১

কাঁঠালবোঝাই ট্রাকে থেকে ৭১৮ বোতল ফেনসিডিল জব্দ —র‍্যাব-১

জুলাই ১৭, ২০১৯ 0 By আরসিএন২৪বিডি.কম

দিনাজপুরঃদিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলাতে একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকে আটক করা হলে ঔই ট্রাক থেকে মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করে র‍্যাব-১-এর একটি দল।

দিনাজপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় ট্রাক যোগে একটি মাদকের বড় চালান যাবে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এরপর ট্রাকটির গতিবিধির ওপর নজর রাখা শুরু করে ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির একটি বিশেষ টিম।

একপর্যায়ে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন হাউজ বিল্ডিং এলাকায় মাদক বহনকারী ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব।

এরপর শুরু হয় অভিযান। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ আটক করা হয় আট মাদক কারবারীকে।

বুধবার (১৭ জুলাই) ভোররাতে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-১-এর সিপিসি-১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

আটককৃতরা হলেন যারা- মো. রাজু আহম্মেদ (৩২), মো. মুন্না (২০), মো. সাগর (১৯), মো. ইউসুফ (৩০), মো. নূর ইসলাম (৩৪), মো. রফিকুল ইসলাম (৫০), মো. মফিজুল ইসলাম (৩১) ও মো. মোস্তাফিজুর (২০)।
তাদের কাছ থেকে ৭১৮ বোতল ফেনসিডিল, ৮টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয় এবং ১টি ট্রাক ও ১টি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, মাদক কারবারি রাজু আহম্মেদ পেশায় একজন ট্রাকচালক। সে এর আগে ঢাকা-খুলনা রুটে একটি নৈশ কোচের ড্রাইভার হিসেবে নিয়োজিত ছিল।

মাদক কারবারের সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে নৈশ কোচ ছেড়ে ট্রাক চালাতে শুরু করে।

দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রাকে মৌসুমী ফল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল রাজধানীতে নিয়ে আসছে।

মাদক কারবারীদের কাছ থেকে চালান প্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে স্বীকার করে সে।

তিনি জানান, অপর দুই আসামি মুন্না ও সাগর তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

তারা মাদক কারবারীদের নিকট থেকে চালান প্রতি ৫-৭ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে জানায়। তারা এযাবৎ ১০-১২টি মাদকের চালান ঢাকায় পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছে বলে স্বীকার করে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, অপর আরেক আসামি ইউসুফ পেশায় একজন রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার গাড়িচালক।

সে ৭ বছরের বেশি সময় ভাড়ায় প্রাইভেট কার চালাত এবং পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পরিবহণ করত।

সে এই সিন্ডিকেটের সাথে কাজ করার আগে মাদক কারবারী গণির সাথে কাজ করত।

গণি এই বছর এপ্রিল মাসে মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকে সে এই চক্রের সাথে কাজ শুরু করে।

মূলত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে আসা মদকদ্রব্য ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করতে পারে না বিধায় মাদক কারবারীরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য পৌছাতে প্রাইভেট, সিএনজি ইত্যাদি ছোট পরিবহন ব্যবহার করে থাকে।
এদিকে রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এটি একটি সংঘবন্ধ মাদক চোরাচালানচক্র।

আটক অপর আসামি নূর ইসলাম, মফিজুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর এই চক্রের অন্যতম সদস্য।

তারা মাদকের চালান সংগ্রহ করে ট্রাকে তুলে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বেই সেখানে পৌছে যায় এবং স্থানীয় মাদক কারবারিদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে।

তারা প্রাইভেটকার/সিএনজিতে করে মাদকের খুচরা চালান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয়।

আরসিএন২৪বিডি/সময় ১০ঃ১২ ১৭ জুলাই ২০১৯