মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারো তলব করা হয়েছে

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারো তলব করা হয়েছে

ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ 0 By আরসিএন২৪বিডি.কম

ঢাকায়-RCN24BD:বাংলাদেশে অবস্থানরত সব মিয়ানমার নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়ার আহ্বান এবং সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সেন্ট মার্টিনের কাছে বাংলাদেশের পানিসীমায় মিয়ানমার নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশীদের হতাহত করার প্রতিবাদে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবারো তলব করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতের হাতে দুটি কূটনৈতিক পত্র দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার(২৯ ডিসেম্বর) মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) কামরুল আহসানের দফতরে।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি পত্র দেয়া হয়েছে কামরুল আহসান সাংবাদিকদের একথা বলেন।প্রথম পত্রে বাংলাদেশে অবস্থানরত নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব রোহিঙ্গা নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত নিতে বলা হয়েছে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় পত্রে গত মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিনের কাছে বাংলাদেশের পানিসীমায় মিয়ানমারের নৌবাহিনীর গুলিতে চার বাংলাদেশী জেলের আহত হওয়ার ঘটনা পূর্ণ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর রাষ্ট্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভিযান ও বাংলাদেশ সীমান্তে তার প্রভাব নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল সরকার।

তলবের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কামরুল আহসান বলেছিলেন। সীমান্তের ওপারে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। রাখাইন প্রদেশে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির দাবি করেছি যাতে সীমান্ত পার হয়ে আসা মানুষ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। বলেছি, রাখাইনে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা ধর্ষনের কোনো ঘটনা ঘটা উচিত না।

মিয়ো মিন্ট থান বরাবরের মতই সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলতে চাননি। মিয়ানমরের রাষ্ট্রদূত বরাবরের মতই এসব অভিযোগকে ‘মনগড়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে জানান কামরুল আহসান।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত অক্টোবরে সীমান্ত চৌকিতে দুর্বৃত্তদের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো দমন-পীড়নে আরো বেশ কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ অভিমুখী ঢল সামলাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কড়া নজরদারী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কক্সবাজারে দুটি উদ্বাস্তু শিবিরে প্রায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গা রয়েছে।