পাকিস্তানের মাওলানা সামিউল হক আততায়ীর হামলায় নিহত

পাকিস্তানের মাওলানা সামিউল হক আততায়ীর হামলায় নিহত

নভেম্বর ৩, ২০১৮ 4 By আরসিএন২৪বিডি.কম

রংপুর ক্রাইম নিউজ – পাকিস্তানঃ

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ও সাবেক সিনেট সদস্য মাওলানা সামিউল হক আততায়ীর হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ‘ডন’ মাওলানা সামিউল হকের ছেলে মাওলানা হামিদুল হকের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে।

সামিউল হকের ছেলে জানান , শুক্রবার (২ নভেম্বর) তার বাবা যখন নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন আততায়ী তাকে ছুরিকাঘাত করে। আর সে সময়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তিনি আরও  বলেন, যে সময়ে এ ঘটনাটি ঘটে তখন বাবার গাড়ি চালক হাক্কানি বাইরে বেরিয়েছিলেন। ডাইভার ফিরে এসে দেখেন মাওলানা সামির নিথর দেহ বিছানায় পড়ে আছে। তার চারপাশ রক্তের ডোবায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

নিহত মাওলানা সামির মুখপাত্র ইউসুফ শাহ বলেন, হত্যাকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে।

এমন সময় মাওলানা সামিউলের হত্যার খবর আসলো, যখন ধর্ম অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবিকে সুপ্রিম কোর্টের খালাস দেয়ার ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে আন্দোলন চলছে।

অভিযোগ আছে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন আসিয়া বিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মাওলানা সামি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জমিয়ত উলেমায়ে ইসলামের একটি অংশের। এ অংশের প্রধান তিনি নিজে। কিন্তু আসিয়া বিবি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন নি তিনি।

এ তথ্য দিয়েছেন তারই ছেলে মাওলানা হামিদ। ফলে ওই আন্দোলনের সঙ্গে এই হত্যার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

মাওলানা হামিদ বলেছেন, তার পিতাকে অনেক কোপ দেয়া হয়েছে। তাকে কোপানের প্রায় ১৫ মিনিট পরে বাহরিয়া শহরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় মাওলানা সামির গাড়ির চালক ও প্রহরী।

উল্লেখ্য, ৮২ বছর বয়সী মাওলানা সামি পাকিস্তানের খাইবার পখতুনখাওয়া প্রদেশের আকোরা খাত্তাক শহরে অবস্থিত দারুল উলুম হাক্কানিয়া সেমিনারের প্রধান ছিলেন। দু’দফা তিনি পাকিস্তানের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রথমবার। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। এ বছর ২৫ শে জুলাই পাকিস্তানে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ দলের সঙ্গে তাল মিলিয়েছিলেন।

পাকিস্তানে মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন রকম কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বাস্তবায়নে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার।
আরসিএন২৪বিডি/