শীতের ৫ টি শাক সবজির গুণাগুণ জেনে রাখুন

শীতের ৫ টি শাক সবজির গুণাগুণ জেনে রাখুন

অক্টোবর ২৪, ২০১৮ 0 By আরসিএন২৪বিডি.কম

আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে তা আপনি খেয়াল করছেন? তাপমাত্রা কমতে শুরু করছে। এখন হালকা শীত শীত ভাব শুরু হয়ে গেছে তাই না। মানেই শীত চলে এলো।

 

শীতের শুরুতে শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত

যে ৫ টি শাক  সবজি খাবেন । শীতের সবজিতে রয়েছে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট(এন্টিঅক্সিডেন্টস), ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ থাকে, তা আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। এতে রোগবালাই কম হয়ে থাকে। শীতের শুরু থেকেই কিছু সবজি খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখা জরুরি।

নিম্নে কয়েকটি শীতকালীন সবজি সম্পর্কে জেনে নিন:

  • গাজর: গাজর একটি শীতকালীন সবজির মধ্যে অন্যতম। আপনি জানতেন যদি এর কতগুণ আছে, তা হলে দৈনিক যে সবজিই খান না কেন, তাতে গাজর থাকাটা বাধ্যতামূলক করে নিতেন নিশ্চিত। গাজরের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপকারটি, হলো দৃষ্টিশক্তি প্রচুর বাড়ায়। এছাড়াও গাজরে রয়েছে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের আঁশ থাকে। গাজর ওজন কমায় , তাই খাদ্যতালিকায় আজই গাজর যোগ করা উচিত।

এটি সাধারণত শরীরের মেদ কমেই থাকে তাই আপনি ওজন কমাতে গাজর খেতে পারেন। আমাদের সাধারণত শরীরের বয়সের ছাপ চলে আসে। শরীরে মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক একটি উপাদানের কারণে বয়সের ছাপ দেখা দেয়া।গাজরের মধ্যে যে ক্যারটিনয়েড থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে বয়সের ছাপ আসার গতিকে ধীর করে দেয়।

তাছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরলের বিষমুক্ত করে, হৃদরোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধেও বিশেষ সহায়তা করে থাকে। এক গবেষণায় দেখা যায় যে, গাজরে প্রতি ১০০ গ্রাম রয়েছে ৩৩ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’, ৯ শতাংশ ভিটামিন ‘সি’ এবং ৫ শতাংশ ভিটামিন ‘বি-৬’ পাওয়া যায়।আমাদের শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু, ভাইরাস ও বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে কাজ করে থাকে।

এমনকি গাজরের জুসে রয়েছে ভিটামিন ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে যা হাড় গঠন সাহায্য করে,মস্তিষ্কের ক্ষমতাবৃদ্ধিতে ও নার্ভাস সিস্টেমকে শক্ত করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। গাজরে ক্যালরি এবং সুগারের উপাদান খুবই কম থাকায় তা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারি। এছাড়া ডায়াবেটিস প্রতিরোধের যে সকল ভিটামিন এবং খনিজের প্রয়োজন হয়ে থাকে তা এর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। এমনকি চর্বি কমাতে সাহায্য করে বলে ওজনও কমে থাকে।

  • পালং: শীতে অনেক জনপ্রিয় সবজি পালং শাক। শীত চলে এলো তাই পালংশাকের স্বাদ নেওয়ার উপোযক্ত সময় তো এখনই।এতে দ্বিগুণ আঁশ বা ফাইবার থাকে যা অন্যান্য সবুজ সবজির চেয়ে অনেক বেশি। পালং শাক রয়েছে ভিটামিন এ, সি, কে, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ম্যাংগানিজ থাকে। এছাড়া রয়েছে নানা ধরনের উপদান। ফলেট একটি হলো তার মধ্যেই। ফলেট এমন একটি উপদান যা মানুষের শরীরে নতুন কোষ তৈরি করতে এবং ডিএনএ মেরামতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।পালং শাক আরো রয়েছে আঁশ ও ভিটামিন সি-এর মতো বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের উৎস।

সম্পূর্ণ সুফলতা পেতে হলে হালকাভাবে রান্না করা পালং শাক খাওয়াই ভালো।এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত কারণ তা প্রচুর পুষ্টিতে ভরপুর এবং পালংয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ক্যনসার প্রতিরোধী ক্ষমতা জন্যই। সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমিয়ে থাকে,পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে এবং ক্যালরি রয়েছেও কম। তাই ওজন কমাতে আপনি প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে পালং রাখেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যাঁদের ওজন বেশি তাঁরা নিয়মিত পালং খেলে বাড়তি ওজন অনেক কম হয়ে থাকে।

  • মুলা: মুলা নাম শুনেই আমাদের অন্য কিছু মনে হয়। তাই অনেকেই মুলা খেতে অনকে চান না। কিন্তু আপনি জানেন কি মুলায় প্রচুর উপকার রয়েছে। মুলা তরকারি বা সালাদে নানাভাবে মুলা খাতে পারেন। পুষ্টিবিদেরা বলেন, মুলার অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। যকৃৎ ও পাকস্থলী পরিষ্কারে মুলা প্রচুর উপকারী। দৈনিক তাই খাবার টেবিলে মুলা রাখা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে আঁশ ও প্রচুর পানি।

আঁশ জাতিও খাবার বলে তা অনেকক্ষন পেট ভরে রাখে। এছাড়া এর বিশেষ উপকারিতা যকৃৎ ও পাকস্থলী বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে থাকে।মুলার সাধারণত বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। যেমন সাদা,লাল বা কালো রঙের মুলা হয়ে থাকে।সাধারণত শীতকালে সাদা মুলা সহজে পাওয়া যায়।সাদা মুলায় প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধে করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। কালো রঙের মুলা ও এর পাতা মানুষের জন্ডিসের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। মুলায় যে উপাদান থাকে, তা মানুষের রক্ত শোধনে সহায়তা করে থাকে।এছাড়ও মুলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সালফার।

  • সরিষা শাক: শীতের বাজারে এখন দেখা যাবে সরিষা শাক। এমন কি শীত মৌসুমে অনেক বাড়িতেই সরষে শাকের বেশ কদর। সরষে ফুল দিয়ে একটি সুস্বাধু বড়া হয় যার নাম উপাদেয় বড়া। সরিষা শাকে ওজন কমাতে সহায়ক ভিটামিন সি ও আঁশ থাকে। যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কিছু বিশেষ উপাদান। যেমন আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাংগানিজ রয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য সরিষা বিশেষ উপকারিতা রয়েছে যা প্রতিদিন খেলে এই রোগ থেকে মুক্ত পাওয়া যায়।

  • বিট: বিট সাধারণত চর্বি নেই যা একেবারে ক্যালরি কম থাকে। আপনার শরীরের ফিট রাখতে চাইলে খাদ্যতালিকায় বিট আজই যোগ করুন। আপনি কি এই শীতের মৌসুমেও সতেজ ত্বক চান, তাহলে আপনার জন্য সেরা শীতের সবজি হবে এই বিট। এমন কি শরীরে ক্ষতিকর উপাদান বা বিষমুক্ত করার বিশেষ উপাদান রয়েছে এই বিটে।

বিটে সাধারণত পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি৬, এ, সি, নাইট্রেট রয়েছে। আপনার শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য নানা উপাদান থাকায় শীতের সবজি মধ্যে বিশেষ করে বিট খাদ্যতালিকায় রাখা অধিক জরুরি। ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে নিয়মিত বিট খেতে পারেন। আপনাদের ত্বক তৈলাক্ত ও ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলে, আজ থেকে বেশি করে বিট খান।নিয়মিত বিটের জুস খেলে মুখে ব্রণের সমস্যা দূর হয়।

বিট এর উপকারিতা

বিট এর উপকারিতা

রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করে: বিটে অতিমাত্রায় রয়েছে নাইট্রেটস। মুখে থাকা ব্যক্টেরিয়ার সংস্পর্শে এসে এই নাইট্রেট মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে ।

লিভার ডিটক্সিফাই সহায়ক : ফাস্টফুড, স্পাইসিতে অভ্যস্ত জীবনে এমনিতেই লিভারের অবস্থা সঙ্গিন। বিটের জুসে থাকা বেটাইন নামে এক উপাদান কিন্তু লিভার ফাংশান ভালো করে। লিভার থেকে টক্সিন বের করতে সহায়ক ।

ক্যানসারের চিকিত্‍‌সায়: বিটের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-টিউমার এর গুণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের হাত থেকে সুস্থ কোষগুলোকে বাঁচায়। নতুন কোষ গঠনে সহায়ক করে।

NEWS MORE