ছাত্র ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক – রংপুর

ছাত্র ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক – রংপুর

আগ ৮, ২০১৮ 0 By আরসিএন২৪বিডি.কম

রংপুরের পশ্চিম খাসবাগ ,দখিগঞ্জ পাড়ায় একটি মাদ্রাসায় ধর্ষণের শিকার হয়ে এক ছাত্র
ছুটি নিয়ে তার বাড়িতে চলে যায়।

এ খবর জানাজানি হবার পর দারুত তায্কিয়া নূরানী ও হিফজুল কুরআন মাদরাসার ধর্ষণকারী শিক্ষক পালিয়ে যায়।

ধর্ষণকারী শিক্ষকের নাম মোঃ তারেক তার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়।

 

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) একজন অভিভাবক রংপুর ক্রাইম নিউজ অফিসে এসে অভিযোগ দিয়ে এ ঘটনা জানান ,

অভিভাবক যা বলেন ,গত মাসের ২৯ জুলাই রবিবার মাদ্রাসার এক নতুন ছাত্র কে রাতে শিক্ষকের ঘরে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে , ধর্ষণ করার পরের দিন ওই শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষণ হাওয়া ছাত্র কে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির সঙ্গে অভিভাবক কথা বললে তিনি বলেন এ বিষয়টি তিনি শুনেছেন ও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। কিন্তু এই ঘটনাটি হওয়ার ৯-১০ দিন হলো এ বিষয়টি এখন গোপন রাখার জন্য নানা ধরণের কথা বলছেন।

মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) এ অভিভাবক বলেন আজ আমার ছেলে ফোন দিয়ে জানায় যে সে আর মাদ্রাসায় থাকবে না। তাকে বিভিন্ন ভয় দেখানো হচ্ছে , পরে তার ছেলে কে আনতে যান ওই মাদ্রাসায় , কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার ছেলে কে নিয়ে যেতে দিতে নিষেধ করেন।

কারণ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এমত অবস্থায় যদি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র বাহিরে যায় তবে বিষয়টি জানাজানি হবে , আর এ কারণে প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের কেউ কে বাহিরে যেতে দিতো না।

রংপুর ক্রাইম নিউজের সাংবাদিক ঘটনার সত্যেতা যাচাই এর জন্য প্রতিষ্ঠানে যায়। প্রতিষ্ঠানে যাবার পর সেখানে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, শিক্ষকবৃন্দ, ও সাবেক এক পুলিশ কর্মকতা সে সময়ে মাদ্রাসায় কিছু অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে ছিলেন।

রংপুর ক্রাইম নিউজের সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতির কাছে ঘটনার সত্যেতা জানতে চাইলে তিনি বলেন মাদ্রাসার পরিচালক হজ করতে গিয়েছেন, যে কারণে তিনি ধর্ষক শিক্ষকের ঠিকানা ও ছাত্র ঠিকানা এখনো বের করতে পারেননি। মাদ্রাসার পরিচালক যিনি তার কাছে প্রতিষ্ঠানের কাগজ যেখানে রাখা আছে, সেই আলমারির চাবি তিনি রেখে হজ করতে গিয়েছেন।

আর এ কারণে তিনি এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেন নাই। এ সময়ে মাদ্রাসায় উপুস্থিত থাকা সাবেক এক পুলিশ কর্মকতা তিনি বলেন এই মাদ্রাসায় অনেক সমস্যা হয় যেমন প্রতিষ্ঠানের টাকা নিয়ে অনেক জন পালিয়ে যায় , আর তিনি পলাতকদের খুঁজে টাকা উদ্ধার করেন।

তিনি আরোও বলেন যে ঘটনা টি মাদ্রাসায় ঘটেছে তিনি নিজে বাদী হয়ে মামলা করবেন কিন্তু ধর্ষক শিক্ষকের ঠিকানা না এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে এ বিষয়ে এখনো কিছু করতে পারেন নাই।

“তবে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কথায় ঘটনা সপূর্ণ সত্য কিন্তু তারা এ বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে।”

অন্যদিকে মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এ ঘটনা হয়েছে এবং ছাত্রদের ভিতরে কিছু ছাত্র সভাপতির কাছে এ বিষয়টি অবগত করে।

রংপুর ক্রাইম নিউজের সাংবাদিক পরে ছাত্র ভর্তির ফরম সংগ্রহ করে ধর্ষণ ছাত্রর নাম ঠিকানা জানা যায়। এরপর ছাত্রের বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় , তিনি প্রথমে বলেন কিছু জানান না, পরে তাকে বলা হয় আপনার ছেলে যে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে,

সেখানে এক শিক্ষক আপনার ছেলের সঙ্গে অপীতিকর কাজ করেছে এবং সেই শিক্ষক পলাতক, এক পর্যায় ছাত্রর বাবা রেগে গিয়ে বলেন ওই শিক্ষক যেখানে থাক না কেন আমি খুঁজে বের করবো আর তার লিঙ্গ কেটে দিবো। যে জায়গায় আমি আমার সন্তান কে হাফেজ করার জন্য দিয়েছি সেখানে এমন ঘটনা হলে কি করা যায়। আরোও জানান যে তিনি নিজে একজন শিক্ষক।

এর কিছুক্ষন পর ছাত্রের মামা ফোন করেন আর তিনি বলেন তার ভাগিনা ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায়,পরে মাদ্রাসা থেকে আব্দুর রহমান নামে এক শিক্ষক ফোন করে বাড়িতে জানান যে এখন তার ভাগিনাকে মাদ্রাসায় পাঠানোর দরকার নাই, কারণ প্রতিষ্ঠানে বর্তমান কাজের বুয়া নাই ও কয়েক জন শিক্ষক নাই , তাই ঈদের পর যেন তাকে পাঠানো হয়।

পশ্চিম খাসবাগ,দখিগঞ্জ ওয়ার্ড এর কাউন্সিলর কে মোবাইল এ যোগাযোগ করা হলে তিনি বাসায় আছেন বলেন, পরে তার বাসায় গিয়ে মোবাইল এ কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নাই। তাই এখনো তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমান মাদ্রাসাতে কিছু অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যায় এ ঘটনা জানার পর।

পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে তাই তদন্ততের স্বার্থে নাম ঠিকানা দেয়া হয়নি

আরসিএন২৪বিডি / রংপুর