আজ রংপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন

আজ রংপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন

জুলাই ২০, ২০১৯ 0 By Editor

রংপুর : আজ শনিবার প্রায় ৬ বছর পর রংপুর মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ।
শনিবার (২০ জুলাই ) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সকাল ১১টায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এই সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমুল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছাস বিরাজ করছে।
এর আগে একাধিকবার কমিটি গঠন উপলক্ষে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত বিশেষ কারণবসত সম্মেলন হয়নি।

আর এ জন্যই ৬ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে নগর যুবলীগ। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে ছিলেন রংপুর যুবলীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী।

তবে আজ ২০ জুলাই (শনিবার) কেন্দ্র ঘোষিত সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হওয়াতে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্যদের মাঝে আনন্দ উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ ।

রংপুর মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী সম্মেলন উদ্বোধন ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। সম্মেলনে প্রধান বক্তা থাকবেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

এছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশি এমপি, একেএম আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক এম.পি, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকসহ জেলা ও মহানগর নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর ৩৩ টি ওয়ার্ডের ১৫ জন করে মোট ৪শত ৯৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এবার নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর যুবলীগের বর্তমান আহ্বায়ক এবিএম সিরাজুম মনির বাশার, যুগ্ম-আহবায়ক হারুন অর রশীদ, মহানগর যুবলীগের সদস্য হারুন অর রশীদ সাগর ও সাধারণ সম্পাদক পদে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ হোসেন, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, যুগ্ম-আহবায়ক শ্রী হারাধন রায় হারা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল মাহমুদ রাসেলের নামও জোড়ালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

এছাড়াও যুগ্ন আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল রানা ইমনসহ একাধিক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।

যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নেতাকর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নগরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন সাটিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও প্রচারণা শুরু করেছেন। সম্মেলনকে ঘিরে উৎসাহ থাকলেও অনেকের মাঝে রয়েছে উৎকন্ঠা।

সভাপতি পদপ্রার্থী হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, এবার ৬ বছর পরে আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ বিরাজ করছে।

দলের দুঃসময়ে আমি ছিলাম। নেতাকর্মীরা তাদের সমস্যা ও সুবিধায় আমাকে পেয়েছে। আমি সকল সময়ে দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।

দলের কাণ্ডারী হিসেবে সকল সময়েও আমি নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছি। দলের এ সুসময়েও প্রতিটি নেতাকর্মী আমাকে চায়।

একারণে আমি ভোটে প্রতিদ্বন্দিতা করছি। ভোটে জয়ী হলে তৃণমুল ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করা হবে।

মহানগর যুবলীগের আহবায়ক এবিএম সিরাজুম মনির বাশার বলেন, ‘কর্মী যাচাই-বাছাই, কমিটি গঠন বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজকর্ম আমার কমিটির সকল যুগ্ম-আহবায়কদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সারা বছর ধরে আমাকে মহানগর যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠনে রুপান্তর করার জন্য সহযোগিতা তা ভুলার মত না।

আগামী ২০ জুলাই সংগঠনের সন্মেলনকে সফল করার জন্য সবার সহযোগিতা এবং একটি কর্মীবান্ধব কমিটি উপহার দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্যে।

নেতা তৈরি করবে কাউন্সিলরবৃন্দ। আমাকে ভালো লাগলে বিগত দিনে আমার সাংগঠনিক কাজ কর্ম ভালো লাগলে আবারো আমাকে নির্বাচিত করবে এটাই নিয়ম। আসুন সকলে মিলে ২০ জুলাই সন্মেলন সফল ও স্বার্থক করি।’

নগর যুগ্ম আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুরাদ হোসেন বলেন, আগামী ২০ জুলাই সন্মেলনকে সফল করার জন্য সকল ওয়ার্ডের মহানগর যুবলীগ কর্মীদের জানাই আমার আহব্বান।

তারাই আমার মূল উৎস। এখানে কেউ পর না সবাই আপন। সকলেরই সমান অধিকার আছে। তাই আমরা যারা পদ নিয়ে এবার কাউন্সিলরদের সামনে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত হয়েছি তারই প্রতিফলন হবে সন্মেলনে।

আমি আশা করি সামনের যে কমিটি আসছে কর্মীরাই সিদান্ত নিবে কে হবে আগামী দিনের রংপুর মহানগর যুবলীগের কাণ্ডারী।’

উল্লেখ্য, কেন্দ্র ঘোষিত প্রথমে গত ১৩ জুলাই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়। কিন্তু এরপর রংপুর মহানগর যুবলীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ মিছিল সমাবেশ চালালে কেন্দ্র থেকে ১৫ জুলাই কাউন্সিল করতে তারিখ নির্ধারণ করে।

এর পরেও একটি গ্রুপ ওয়ার্ড যুবলীগের ভোটার তালিকা হতে সদস্যদের তথ্য যাচাইসহ পুনঃসংশোধনের দাবি তুললে অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী ২০ জুলাই শনিবার তারিখ নির্ধারণ করেন। এতে ২ গ্রুপই মেনে নিয়ে কাউন্সিলের সম্মতি প্রকাশ করে প্রস্তুতি নেয় এবং প্রচারে নেমে পরে।

এর আগে ২০১২ সালে এবিএম সিরাজুম মনির বাশারকে আহবায়ক, ইসমাইল হোসেন সাজুকে ১নং যুগ্ম আহবায়ক ও মুরাদ হোসেন, হারুন অর রশীদ, শ্রী হারাধন রায় হারা, সাইফুল ইসলাম, আশরাফুল আলমকে যুগ্ম আহবায়ক করে কমিটির অনুমোদন দেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

তিন মাসের মধ্যে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত ৬ বছরেও তা করা সম্ভব হয়নি।
আরসিএন ২৪ বিডি / ২০ জুলাই ২০১৯