April 13, 2024
রাশিদকে খুন এবং মিশুক ছিনতাইকারী আসামী গ্রেফতার পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

রাশিদকে খুন এবং মিশুক ছিনতাইকারী আসামী গ্রেফতার পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

Read Time:9 Minute, 6 Second

আজ রবিবার ২৭ আগষ্ট দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অটো চালককে খুন করে অটো মিশুক ছিনতাই আসামী গ্রেফতারে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার স্বর্ণামতি নদী হতে মোঃ আব্দুর রাশিদ (৪০) অটো (মিশুক) চালককে অপহরণ পূর্বক খুন করে অটো মিশুক ছিনতাই ও আলামত গোপনের অপরাধে আদিতমারী থানা পুলিশের অভিযানে আলামত উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম ২৭ আগষ্ট দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন গত ২১আগষ্ট তারিখে তথ্য প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত আসামী সামছুল হক বাবুকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে আসামীর বাড়ী খারুভাঁজ এলাকায় রাত্রি বেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান কালে আসামী মোঃ সামছুল হক বাবুর মা মোছাঃ সালেহা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় যে, উক্ত আসামী ঘটনার পরপরই পলাতক ছিল। পরবর্তীতে সোর্সের দেওয়া তথ্য মতে লালমনিরহাট থানাধীন মোস্তফির বাজারে সততা ভাংড়ীর দোকানে ছিনতাই করা মিশুকটি বিক্রয়ের চেষ্টা করে মর্মে জানা যায়। আদিতমারী থানা পুলিশ উক্ত জায়গায় উপস্থিত হয়ে সংগৃহীত সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ ও সিডিআর পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষে মামলার আইও সহ আদিতমারী থানার ১টি আভিযানিক দল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করে। আসামীরা দ্রুত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার কারনে একই সাথে র‍্যাব-১৩ মাধ্যমে র‍্যাব-১১ এর নরসিংদী র‍্যাব ক্যাম্পের সহায়তা চাওয়া হয়। আদিতমারী থানার আভিযানিক দলটি সার্বক্ষনিক র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে র‍্যাবের সহায়তায় ২৩ আগষ্ট তারিখ সন্ধ্যায় গাজীপুর কোনাবাড়ী এলাকা হইতে ছিনতাইকারী আসামী: সিরাজুল ইসলাম(১৯), সামছুল হক বাবু(৩২), মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না(২০), মোমিনুল ইসলাম (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার তার লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন ২০ আগষ্ট বিকালে খারুভাজ স্কুল মাঠে ১-৩ নং আসামীরা অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী মোঃ সিরাজুল ইসলাম মিলন বাজার ভাংরির দোকান হতে একটি লোহার রড কিনে ঘটনাস্থান কান্তেশ্বর পাড়া সাদা ব্রিজের উপর শুকাতে দেওয়া কাশখড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে আদিতমারী বড়ির বাজারে আসে। সেখানে থেকে ১টি অটো মিশুক বাবুর বাজারে যাবে মর্মে ভাড়া করে। ঐ দিন রাত অনুমান ১১টা ৪০ টার পর ১ হতে ৩ নং আসামীরা ভিকটিমকে নিয়ে ঘটনাস্থান কান্তেশ্বর পাড়া সাদা ব্রীজের উপরে পৌছালে আসামীরা অটো চালক (ভিকটিম)-কে উক্ত ব্রীজের উপরে তাদেরকে নামিয়ে দিতে বলে। অটো চালক থামালে আসামী সামছুল হক বাবু ভাংতি নাই মর্মে কৌশলে ৮০ টাকা ভাড়া দেওয়ার জন্য ১০০ টাকার ১টি নোট অটো চালকের ডান হাতে দেয়। অটো চালক ২০ টাকা ভাংতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে শার্টের পকেট থেকে পকেটের সমস্ত টাকা বের করার সময় আসামী মোঃ সামছুল হক বাবু তার বাম হাত দিয়ে অটো চালকের হাতে থাকা টাকা থাবা দিয়ে ছিনিয়ে নেয়। উক্ত সময়ে আসামী মুন্না এবং বাবুর সঙ্গে অটো মিশুক চালকের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঐ সময় মোঃ সিরাজুল ইসলাম পূর্বেই ব্রীজের উপরে খড়ের নিচে লুকিয়ে রাখা লোহার রড বাহির করে এনে ভিকটিমের মাথায় পিছন দিক দিয়ে পরপর দুইটি স্বজোড়ে আঘাত করে। ফলে অটো মিশুক চালক নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার মাথা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। এই সময় রাস্তা দিয়ে অন্য ১টি গাড়ী আসার আলো দেখতে পেয়ে তিনজন মিলে উক্ত অটো মিশুক চালককে ব্রিজ থেকে ভেটেশ্বর নদীর পানিতে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে ফেলে দেয়। আসামী মোস্তাফিজুর রহমান মুন্না লোহার রড টি উক্ত ভেটেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়। এরপর আসামীরা ভিকটিমের নিকট থাকা ৭৩০ টাকা ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ চোরাই অটো মিশুক নিয়ে সাপ্টিবাড়ী দিয়ে লালমনিরহাটের মিশন মোড় হয়ে মোস্তফির দিকে যায়। গত ২১ আগষ্ট তারিখ সকাল বেলা মোস্তফির একটি ভাংড়ির দোকানে অটো মিশুকটি বিক্রয়ের চেষ্টা করে। বিক্রয়ের চেষ্টা কালে ভাংড়ির দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন সন্দেহ করলে ১,৩ নং আসামীরা উক্ত মিশুক গাড়ীটি মোস্তফি বাজারে ফেলে রেখে কৌশলে অন্য ১টি অটোতে চড়ে তিস্তা রেল স্টেশন হয়ে ট্রেনে কাউনিয়া রেল স্টেশনে যায়। সেখান হতে ট্রেনে উঠে সান্তাহার রেল স্টেশনে যায়। সেখানে রাত্রী যাপন শেষে সকালে ঢাকার ট্রেনে উঠে কমলাপুর রেল স্টেশনে যায় নামে। পূনরায় আসামীরা ট্রেনে উঠে নারায়নগঞ্জ যায়। সেখান থেকে আসামী সিরাজুল তার বাবাকে মোবাইল ফোনে ঘটনার বিষয় বিস্তারিত জানালে তার বাবাকে মোমিনুল ইসলাম বিষয়টি কাউকে কিছু না বলার পরামর্শ দিয়া তাহার নিকট আশ্রয় দেওয়ার জন্য ডেকে নেয় এবং আশ্রয় দেয়। পরবর্তীতে র‍্যাবের সহায়তায় গত ২৩ আগষ্ট সন্ধ্যায় গাজীপুর কোনাবাড়ী থেকে ৪ নং আসামীর আশ্রয় হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আমাদের নিকট সত্যতা স্বীকার করে। ইতিমধ্যে এজাহারে বর্নিত ছিনতাই করা অটো মিশুক গাড়ীটি মোস্তফি বাজার হতে উদ্ধার মূলে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী সামছুল হক বাবুর নিকট হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং আসামী মোস্তাফিজুর রহমান মুন্নার দেওয়া তথ্য ও তাকে ঘটনাস্থানে হাজির করে তার দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রডটি ভেটেশ্বর নদী হতে উদ্ধার করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে আসামীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাহাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলাটি তদন্ত অব্যাহত আছে। পরবর্তী তদন্তে ঘটনার বিষয়ে আরো বিস্তারিত প্রকাশ হবে ।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
100 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
রংপুরে ৪ দফা দাবিতে ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ Previous post রংপুরে ৪ দফা দাবিতে ম্যাটস্ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ
অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ চেয়ারম্যানের সিএনজি স্টেশন বন্ধ Next post অবৈধ গ্যাস সংযোগের অভিযোগ চেয়ারম্যানের সিএনজি স্টেশন বন্ধ